শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না ইরান

বক্তব্য রাখছেন ইসমাইল বাঘাই

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সোমবার (২০ এপ্রিল) তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে জানান যে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় অংশ নেবে না তাঁর দেশ। 

তিনি অভিযোগ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা নিচ্ছে না এবং দেশটির এই হঠকারী আচরণের ফল কখনো শুভ হবে না। তেহরানের এমন অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইসমাইল বাঘাই জানান, এর আগে একটি ১০ দফা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল যা নিয়ে ইসলামাবাদে বিস্তারিত আলোচনাও হয়। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসী হামলার আগে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। 

বর্তমানে ওই অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, তার জন্য তিনি সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতিকে দায়ী করেন। মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানি পক্ষ পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে যে, লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে এই আলোচনার কোনো সম্পর্ক ছিল না।ইরানের পক্ষ থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। 

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে একটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটন বারবার আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আচরণকে উস্কানিমূলক হিসেবে দেখছে তেহরান। বাঘাইয়ের দাবি অনুযায়ী, নৌপথে এই ধরনের হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছরে দুইবার স্বাক্ষরিত সমঝোতা ও আলোচনার শর্ত ভঙ্গ করেছে। 

এর পাশাপাশি ইরানের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলা চালিয়ে সাধারণ ইরানি জনগণকে হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। বাঘাই মনে করেন, ওয়াশিংটন যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের শত্রুতা ও অবিশ্বস্ত আচরণ বন্ধ না করবে, ততক্ষণ আলোচনার টেবিলে বসা অর্থহীন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সরাসরি প্রত্যাখান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। আপাতত দুই দেশের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনার পথ খোলা নেই বলেই মনে হচ্ছে।