এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে গোপনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বর্তমান আলোচনার বিস্তারিত ও কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে উভয় পক্ষই চরম গোপনীয়তা বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা সচরাচর দেখা যায় না।
নজিরবিহীন কোনো পরিস্থিতি ছাড়া ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই সরাসরি আলোচনার বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাইছে না।তেহরান ও কূটনৈতিক বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ বিশ্বের আরও বেশ কিছু স্থানে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে এই আলোচনার ধরণ নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকলেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে উভয় পক্ষ শেষ পর্যন্ত কোনো টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো বেশ কিছু অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর বিষয় ঝুলে রয়েছে।উভয় পক্ষের আলোচনার মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে দরকষাকষি চলার মধ্যেই গত কাল যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
আলোচনার মাঝপথে ওয়াশিংটনের এমন কঠোর পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক।কূটনৈতিকভাবে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান হবে কি না, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে এরই মধ্যে উভয় পক্ষ থেকে একে অপরকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যদি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে তারা পুনরায় সামরিক সংঘাত বা বড় ধরনের উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফলে আলোচনার টেবিলের এই গোপনীয়তা শেষ পর্যন্ত শান্তির বার্তা নিয়ে আসবে না কি সংঘাতকে উসকে দেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন