রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভারতের মণিপুরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

ভারতের মণিপুরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত ৩০

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর আবারও তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাজধানী ইম্ফলের রাস্তায় সরকারের জবাবদিহিতার দাবিতে নেমে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সহিংস ঘটনার বিচার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। 

রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া ইম্ফলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে হয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টার দিকে ‘কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি’ বা কোকোমির আহ্বানে এই বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। 

শহরের আটটি ভিন্ন প্রান্ত থেকে একযোগে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা অগ্রসর হতে থাকে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিংয়ের সরকারি বাসভবনে গিয়ে একটি স্মারকলিপি পেশ করা। 

তবে মিছিলটি কেন্দ্রীয় ইম্ফলের ওভারব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে এবং এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গত কয়েক মাসের সহিংসতায় জড়িতদের শাস্তি, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত। এছাড়া কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের করা ‘সাসপেনশন অব অপারেশন’ চুক্তি বাতিলের দাবিও অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয়। 

কোকোমি নেতাদের অভিযোগ, বারবার স্মারকলিপি দিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী বাজার ইমা কেইথেল এবং আলু গলি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে, তারা আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম জানিয়েছেন, তারা একাধিকবার কোকোমি নেতাদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানালেও সংগঠনটি তাতে সাড়া দেয়নি। 

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা জাতিগত দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতার মাঝে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মণিপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটকে আবারও গভীর করে তুলল।