শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

পাকিস্তান ও ভারতে তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত লাখ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১৮, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

পাকিস্তান ও ভারতে তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত লাখ লাখ মানুষ

প্রখর রোদে জনজীবন ওষ্ঠাগত।

পাকিস্তান ও ভারতে তীব্র দাবদাহে লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন। চলতি এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে পাকিস্তানের সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ওপরে অবস্থান করছে। বিশেষ করে সিন্ধু প্রদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় দুপুরের তীব্র গরমে দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ কৃষকেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

একইভাবে ভারতের রাজস্থান,গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, করাচিতে সম্প্রতি সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ।

 তীব্র গরমে উপকূলীয় ইব্রাহিম হায়দারি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের তিন দশকের অভিজ্ঞ জেলে আবদুল সাত্তার জানান, গরমে তার এক সহকর্মী অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। এই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা এখনও ২০১৫ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ দাবদাহে হাজারো মানুষের মৃত্যুর বেদনাদায়ক স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। 

এখানকার সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া ও পেটের সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে প্রধান ডা. সুরেশ কুমার নিশ্চিত করেছেন।তীব্র গরমের এই ধারাবাহিক পরিস্থিতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট প্রভাব হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপ জানিয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক শিল্পায়নের আগের সময়ের তুলনায় এই একই তাপপ্রবাহ এখন প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। 

ক্লাইমেট অ্যাকশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসির দরিয়া জানান, করাচির বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কম তাপমাত্রাতেও বেশি গরম লাগছে এবং রাতে গরমের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে।আবহাওয়ার এই চরম রূপের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় শীতকাল ছোট হয়ে আসছে এবং গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হচ্ছে। পিএমডির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এই অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং কেবল সিন্ধু প্রদেশেই তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। করাচিতে পর্যাপ্ত কুলিং সেন্টার না থাকা এবং দ্রুত গাছপালা কমে যাওয়া নগরীর সামগ্রিক তাপমাত্রা বাড়ার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান