বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

পাকিস্তানের ইসলামপুরা হলো কৃষ্ণনগর, মুস্তাফাবাদ এখন ধরমপুরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ২০, ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

পাকিস্তানের ইসলামপুরা হলো কৃষ্ণনগর, মুস্তাফাবাদ এখন ধরমপুরা!

লাহোরের পুরনো নাম

দেশভাগের প্রায় আট দশক পর লাহোরের হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামি নামের পরিবর্তে এলাকা, সড়ক ও গলির পুরনো হিন্দু, শিখ, জৈন এবং ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পাঞ্জাব সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৯৪৭-পূর্ব লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক ইতিহাস নতুন করে সামনে আসছে।ঐতিহ্যবাহী শহরটিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।

ইসলামপুরা এলাকাটি এখন আবার কৃষ্ণনগর হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বাবরি মসজিদ চক হয়েছে জৈন মন্দির চক এবং সুন্নত নগর ফিরে পেয়েছে সন্ত নগর নাম। এছাড়া মুস্তাফাবাদ হয়ে গেছে ধরমপুরার পুরনো ঠিকানায়। কয়েক মাস ধরে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় এই পুরনো নাম সংবলিত নতুন সাইনবোর্ড চোখে পড়ছে। ইতোমধ্যে অন্তত নয়টি স্থান তাদের আদি পরিচয় ফিরে পেয়েছে।

মৌলানা জাফর আলি খান চকের বদলে আবারও চালু হয়েছে লক্ষ্মী চক নাম।পাঞ্জাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে লাহোর ও আশপাশের সড়কের নাম পুনর্বহালের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ গত দুই মাস ধরে চলছে। 

কামরান লাশারীর মতে, সাধারণ মানুষ এখনও ওই জায়গাগুলোকে পুরনো নামেই ডেকে আসছেন। লাহোরের পরিচয় কোনো একটি ধর্মের নয়, বরং এটি শিখ, হিন্দু, খ্রিস্টান ও মুসলিম ঐতিহ্যের সম্মিলিত বহুমাত্রিক রূপ।ঐতিহাসিক লরেন্স গার্ডেনের নাম ‘বাগ-এ-জিন্না’ থেকে আবার লরেন্স গার্ডেন করা হয়েছে। 

তবে এই উদ্যোগের পেছনে কেবল সাইনবোর্ড বদলই নয়, বরং বহুস্তরীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা রয়েছে। মহারাজা রণজিৎ সিংয়ের আমলের গির্জা থেকে শুরু করে চিত্রকর্মও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক মিন্টো পার্কের আখড়া ও ক্রিকেট মাঠটিও নতুন রূপে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে লাহোর কি আবারও তার সেই বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আবহ ফিরে পাবে?

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা