মে ২১, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
ইউক্রেনের তীব্র ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। একের পর এক হামলার ফলে রাশিয়ার প্রায় সব বড় তেল শোধনাগার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যা দেশটির মোট পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার শিকার এই শোধনাগারগুলোর বার্ষিক সক্ষমতা ৮ কোটি ৩০ লাখ টনের বেশি, যা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ডিজেল ও পেট্রল চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করত।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাশিয়া এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত পেট্রল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে।চলতি বছরের শুরু থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার পাইপলাইন, সংরক্ষণাগার ও শোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।কিরিশি, মস্কো অয়েল রিফাইনারি ও নিঝনি নোভগোরদের মতো প্রধান শোধনাগারগুলোতে হামলার ফলে জ্বালানি উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
বিশেষ করে, ২ কোটি টন সক্ষমতার কিরিশি শোধনাগারটি ৫ মে থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ২০ মে নিঝেগোরোদনেফতেওর্গসিনতেজ (নরসি) শোধনাগারে হওয়া সর্বশেষ হামলাটি রাশিয়ার তেল পরিশোধন খাতকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
এসব হামলার প্রভাব সরাসরি পড়েছে রাশিয়ার ফেডারেল বাজেটে, কারণ দেশটির মোট রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশই আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে।রাশিয়ার তেল উৎপাদনে এই চাপ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রভাব ফেলার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানি সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি ও যুদ্ধের সক্ষমতা—উভয়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সংকটাপন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের নতুন এই ফ্রন্টলাইন রাশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন