বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজায় কোরবানি নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ২৫, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজায় কোরবানি নেই

টানা তৃতীয় বছরের মতো ঈদুল আজহায় কোরবানি দিতে পারছেন না গাজার বাসিন্দারা। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও গবাদি পশুর সংকটে এই উৎসবের ঐতিহ্যটি এখন কার্যত বিলুপ্তির পথে। গাজার বাসিন্দারা এখন বাইরে থেকে আসা হিমায়িত মাংসের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।গাজার ৯০ শতাংশের বেশি পশুসম্পদ খাত ধ্বংস হয়ে গেছে।

একসময় মাজেন আল-জেরজাউইয়ের মতো পশুপালকদের খামারে শত শত ভেড়া ও গরু থাকত। এখন তিনি একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান। যুদ্ধের আগে গাজায় কোরবানির চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি করা হতো। 

কিন্তু বর্তমান অবরোধ পরিস্থিতিতে গাজায় কোনো জীবন্ত পশু প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।ইসরাইলের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বারবার সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে।

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরাইলি হামলায় পশুখাদ্য ও কৃষি সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, গাজার ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল যুদ্ধের সময় মারা গেছে। অবশিষ্ট পশুগুলোর দামও আকাশচুম্বী, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আগে যা ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারে পাওয়া যেত, এখন তা সাত হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

পশুপালন খাত নিশ্চিহ্ন হওয়ায় ২০ লাখ বাসিন্দার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তীব্রতর হয়েছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া জানান, এখন যে অল্প কিছু পশু অবশিষ্ট আছে তা মূলত যাযাবর পশুপালকদের কাছে। পানির কূপ সচল না থাকায় এই খাতটি পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা খুবই কম। গাজার বাসিন্দারা এখন আর ঈদ উৎসবকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। অনেক ফিলিস্তিনি গত এক বছরে এক টুকরো মাংসও খেতে পারেননি। গাজার সমাজকে আত্মনির্ভরশীল হতে বাধা দিতেই এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই