মে ৩১, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের আলোচনা এবার সম্পূর্ণ নতুন এবং জটিল মোড়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির খসড়ায় আরও কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত করে তা পুনরায় তেহরানের কাছে পাঠিয়েছেন। এই নতুন খসড়ায় আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ও সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে এই নতুন শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় ট্রাম্প নিজের তীব্র অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।সংশোধিত এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো তেহরানের ওপর সামরিক ও চাপ আরও বৃদ্ধি করা।
সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প চুক্তির খসড়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংশোধন করে তা পুনর্বিবেচনার জন্য তেহরানের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন।
তবে ঠিক কী ধরনের শর্তের পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা নীতিগত কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের জব্দকৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন কিছু স্পর্শকাতর ধারা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিগত ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও তিনি একই ধরনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন এবং এবারও তিনি সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না।কিন্তু ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে যোগাযোগ প্রক্রিয়া বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তেহরানের পক্ষ থেকে জবাব পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় মার্কিন প্রশাসন কিছুটা উদ্বিগ্ন। এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে এই চুক্তির সংশোধিত কাঠামোটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে নথিতে নতুন কোনো বড় পরিবর্তন আনা হলে সামগ্রিক চুক্তি সম্পন্ন হতে আরও দীর্ঘ বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
এছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যতের মতো অতি স্পর্শকাতর বিষয়গুলো পরবর্তী দফার আলোচনায় বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।এর আগে নতুন শান্তি প্রস্তাব ও যুদ্ধ বন্ধের এই বিশেষ প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা চূড়ান্ত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
নিউইয়র্ক টাইমস


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন