বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ফোনালাপে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বললেন ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২, ২০২৬, ১১:৫২ এএম

ফোনালাপে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বললেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক অত্যন্ত উত্তপ্ত ও নজিরবিহীন ফোনালাপের ঘটনা ঘটেছে। এই গোপন ফোনালাপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলে সুনির্দিষ্টভাবে আখ্যা দিয়েছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। 

লেবাননে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বেপরোয়া আগ্রাসন বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটনের পরামর্শ উপেক্ষা করায় ট্রাম্প চরম ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অকৃতজ্ঞতার তীব্র অভিযোগ তোলেন।

মূলত বৈরুতে ইসরাইলের নতুন সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানে ইরানের সঙ্গে চলমান অত্যন্ত সংবেদনশীল শান্তি আলোচনাকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দেওয়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি করেছে।মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্প বৈরুত লক্ষ্য করে ইসরাইলের পূর্বপরিকল্পিত বিমান হামলা সম্পূর্ণ আটকে দিয়েছেন। 

তিনি নেতানিয়াহুকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন যে লেবাননের রাজধানীতে পুনরায় নির্বিচার বোমা হামলার হুমকি বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বেশি একাকী ও বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। ফোনালাপের সময় ট্রাম্প বেশ উগ্রভাবে দাবি করেন যে তিনিই মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে অতীতে দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচিয়ে কারাগারে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক সহায়তা করেছিলেন।এই উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও মার্কিন চাপের মুখে অবরুদ্ধ ইসরাইলি প্রশাসন তাদের রণকৌশলগত পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই দীর্ঘ ফোনালাপের পর ট্রাম্প পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে একে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেন এবং ইসরাইলি সেনারা বৈরুতের দিকে অগ্রসর হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন যে তিনি বিবি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং লেবাননের বৈরুতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান না চালানোর বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কড়া অনুরোধ বা আলটিমেটামের পরেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী তাঁর সেনাদের সীমানা থেকে দ্রুত ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং এর জন্য ট্রাম্প তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।