জুন ৩, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বিমান হামলার তীব্র জবাবে প্রতিবেশী কুয়েত ও বাহরাইনে সরাসরি একযোগে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান। বুধবার বিশ্বখ্যাত প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দুপক্ষের শীর্ষস্থানীয় সামরিক সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে যে নিজেদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই তাৎক্ষণিক ও জোরালো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন ও আকস্মিক সামরিক সংঘাতের ফলে সমগ্র আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনা ও গভীর যুদ্ধসংকট তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদগুলোকে লক্ষ্য করেই মূলত এই জোরালো ড্রোন হামলা চালানো হয়।
হামলার সত্যতা আংশিক স্বীকার করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে যে ইরান থেকে ছোঁড়া একঝাঁক নতুন ড্রোন কুয়েতের মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ধেয়ে এসেছিল। তবে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত তৎপরতার কারণে ইরানের এই বিশেষ ড্রোন হামলাটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে আমেরিকার দাবি।এদিকে এই আক্রমণের পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতে আকস্মিক বিমান হামলার তীব্র সতর্কসংকেত বা এয়ার রেইড সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে সেন্টকম বুধবার ভোরে এক বিবৃতিতে জানায় যে তারা ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি সচল ইরানি গ্রাউন্ড স্টেশনে মূলত আত্মরক্ষামূলক বিমান হামলা সম্পন্ন করেছিল। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী ওই নির্দিষ্ট স্থাপনাটি থেকে আমেরিকার আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর ড্রোন পরিচালনার কাজ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানিয়েছে যে কেশম শহরে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং যেকোনো ধরনের বৈরিতা মোকাবিলায় তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন