বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় নিহত ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় নিহত ২৩

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর চালানো অত্যন্ত ভয়াবহ ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত এই আকস্মিক ও বর্বরোচিত হামলায় দেশের বহু আবাসিক ভবন এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। 

প্রায় চার বছর ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ হামলা পরিস্থিতিকে নতুন করে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।ইউক্রেনের এই নতুন সংঘাত ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ইউরোপের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগের ভবিষ্যৎকে চরম শঙ্কার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মোট ৭৩টি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬৫৬টি ড্রোন একযোগে নিক্ষেপ করেছে। 

ইউক্রেনের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ রুশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও ৫৪টি ড্রোন এবং ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর দনিপ্রোতে।যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে পুনরায় বড় ধরনের বিতর্কের মুখোমুখি করেছে।

দনিপ্রো শহরে একটি চারতলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়লে দুই শিশুসহ অন্তত ১৬ জনের নির্মম মৃত্যু হয় এবং এই ঘটনায় আরও ৪২ জন গুরুতর আহত হন। এছাড়া রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলার ভয়াবহতা ছিল অত্যন্ত মারাত্মক এবং শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন যে সেখানে অন্তত সাতজন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। বিমান হামলার সাইরেন বাজার পর রাতজুড়ে একের পর এক তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ কেঁপে ওঠে এবং জীবন বাঁচাতে বহু বাসিন্দা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় ছুটে যান।