জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করেছে। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে চলমান দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রে এটিকে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে ওয়াশিংটন কোনো অবস্থাতেই তেহরানকে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেবে না এবং ইরানও এই শর্ত নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে।বৈশ্বিক পরাশক্তি আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান শক্তি ইরানের মধ্যকার এই গোপন পরমাণু সমঝোতা বিশ্ব রাজনীতির গতিপথকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
সাক্ষাৎকার চলাকালে ইরান বর্তমান আঞ্চলিক ও সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে—এমন ধারণাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানের বর্তমানে কার্যকর কোনো নৌবাহিনী বা শক্তিশালী বিমানবাহিনী নেই এবং তাদের সেনাসংখ্যাও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অত্যন্ত কম। এছাড়া দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এক বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে এবং সেখানে বর্তমান মূল্যস্ফীতি প্রায় ২৫০ শতাংশে পৌঁছে গেছে।মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার যে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অত্যন্ত দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরানের নতুন ও উদীয়মান নেতৃত্ব নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান যে দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্বয়ং এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রক্রিয়ার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই ক্ষমতা কাঠামোর অধীনেই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে সরাসরি ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বিস্ফোরক ও সংবেদনশীল দাবির বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত স্বাধীন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন