শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের নথিতে যা আছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের নথিতে যা আছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া বহুল আলোচিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য বিষয়বস্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সামনে এসেছে। খসড়া চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও ফাঁস হওয়া নথিতে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সব ফ্রন্টে সামরিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়ের মতো বিষয় রয়েছে। 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করেছে যে বুমবার্গ নিউজ এবং আল আরাবিয়ার প্রকাশিত দলিলের ওপর ভিত্তি করেই এই খসড়া তৈরি হয়েছে।আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে।নথি অনুযায়ী ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে দুই দেশ এবং চলমান যুদ্ধে তাদের নিজ নিজ মিত্ররা এখন থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ বা বলপ্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না। 

চুক্তিতে সরাসরি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না থাকলেও মিত্রদের কথা বলায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধও এর আওতায় পড়বে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। এছাড়া সমঝোতা সইয়ের পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাবে।চুক্তির ধারা অনুযায়ী স্বাক্ষর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত সব ধরনের নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এর বিনিময়ে ইরান অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ নেবে যাতে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসে। 

এছাড়া ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে যার আর্থিক আকার হবে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল তহবিলের পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মাধ্যমে তেহরানের ওপর আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। 

তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং ইরানের সামগ্রিক পারমাণবিক প্রয়োজনের বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির ৬০ দিনের আলোচনার টেবিলে নিষ্পত্তি করা হবে। চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় ইরান তাদের বর্তমান পারমাণবিক অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে এবং ওয়াশিংটন নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে না। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি সই হওয়ার আগ পর্যন্ত ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যাংকিং ও বীমাসহ বিভিন্ন সেবায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।