জুন ১৭, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে সদ্য সই হওয়া খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে চূড়ান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও ধারা তাঁর পুরোপুরি পছন্দ না হলে ইরানে আবারও তীব্র সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন যে এটি মূলত একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক মাত্র। যদি তিনি এই চুক্তির অভ্যন্তরীণ শর্তগুলো পছন্দ না করেন তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও দেশটির ওপর হামলা চালাবে এবং তাদের মাথার ওপর সরাসরি বোমা বর্ষণ করবে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সাময়িক প্রশমনে এই খসড়া সমঝোতা স্মারকে সই হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই ওই চুক্তিকে এখনও চূড়ান্ত বা স্থায়ী কোনো দলিল নয় বলে মিত্রদেশগুলোর সামনে উল্লেখ করছেন। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে গত সোমবার শুরু হওয়া জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলন বুধবার আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতির মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়ে লেবাননে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিরতির জোর আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ রুটে নানামুখী বৈচিত্র্য আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও যৌথভাবে আলোচনা করা হয়েছে যাতে বিখ্যাত হরমুজ প্রণালির ওপর আন্তর্জাতিক নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়।সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই ইরান চুক্তির বিভিন্ন স্পর্শকাতর দিক বৈশ্বিক মিত্রদেশগুলোর সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউরোপীয় প্রধান মিত্ররা ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের এমন সরাসরি যুদ্ধ বা সামরিক আগ্রাসনের সিদ্ধান্তকে নীতিগতভাবে সমর্থন করেনি।
এদিকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকটি এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে বা দাপ্তরিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে এই খসড়ায় গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে এই সমঝোতার মূল খসড়া নথিটি গত রোববার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে সই হয়েছে।
এতে ওয়াশিংটনের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তেহরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সই করেন। চূড়ান্ত চুক্তির মূল দাপ্তরিক নথিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সরাসরি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারে এরই মধ্যে এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি খোলার জোরালো সম্ভাবনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন