বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

কেন গাজা ইস্যুতে নীরব মোদি সরকার? প্রশ্ন সোনিয়া গান্ধীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ৩, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

কেন গাজা ইস্যুতে নীরব মোদি সরকার? প্রশ্ন সোনিয়া গান্ধীর

ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের বিষয়ে ভারতের বর্তমান সরকারের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী।ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি দাবি করেছেন, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে ভারতের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের কৌশলগত স্বার্থেরও পরিপন্থি। সোনিয়া গান্ধীর মতে, ফিলিস্তিন, ইরান এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক মিত্রদের থেকে ভারত নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছে, যা বিশ্ব জনমতের বিপরীত।

তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর ছিল একটি বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে। নিবন্ধে তিনি গাজায় হতাহত শিশুদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই সামরিক কর্মকাণ্ডকে বেপরোয়া নিষ্ঠুরতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোনিয়া গান্ধীর দাবি, অন্তত ২০ হাজার শিশু নিহত এবং ৪৪ হাজার শিশু আহত হয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসে এক মর্মান্তিক অধ্যায়।

হামাসের ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানালেও, তিনি ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গাজাকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিশ্ব জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে, অথচ ভারত এখনো একাকী নীরব। ভারতের ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিক-পরবর্তী সংহতির নীতি থেকে সরে আসার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পাল্টা জবাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটব্যাংক রাজনীতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, ভারত গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে। বিজেপির ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করছেন।