জুলাই ৪, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ইতিহাসে খুব কম রাষ্ট্রীয় দাফন এত বড় পরিসর ও বিশাল আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে শুক্রবার। আজ তেহরানের সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে শেষকৃত্যের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এখন তেহরানে মূল অনুষ্ঠান চলছে এবং পরবর্তীতে কোম ও মাশহাদ শহরে শোকমিছিল হবে।খামেনির লাশ তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে।ইসলামি রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত দাফনের প্রচলন থাকলেও চার মাসেরও বেশি সময় পর এই দাফন অনুষ্ঠান অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে অনেকে মনে করছেন।
দীর্ঘদিন দাফন না হওয়ায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ইরানি কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তাজনিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই এই বিলম্ব ঘটেছে। কর্মকর্তাদের দাবি, পুরো সময়জুড়ে লাশ ধর্মীয় বিধান মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ ওমর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিয়া শরিয়তে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দাফনে বিলম্ব ও শীতল পরিবেশে লাশ সংরক্ষণের ধর্মীয় অনুমোদন রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে লাশ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হলেও, সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্বাভাবিক নয়।পুরো তেহরান এখন খামেনির ছবি ও বাণীতে ছেয়ে গেছে। এটিকে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় হিসেবে দেখছে দেশটির প্রশাসন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন