শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ভারতে প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

ভারতে প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু

ছবি - সংগৃহীত

ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করে দেশটির প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নর্দান রেলওয়ের অধীনে হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে এই ট্রেনটি চলাচল করবে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি রেল খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।প্রকল্পের অংশ হিসেবে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ট্রেনটি চলবে, যা প্রচলিত ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। উদ্বোধনের পর এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, ভারত এখন সেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাতারে যোগ দিল, যাদের হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন রয়েছে। তিনি বলেন, এটি রেল খাতে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারে বড় অগ্রগতি।

ভারতের এই ট্রেনটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়েছে। এতে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হবে। ১০ কোচের এই ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৬০০ জন। এতে রয়েছে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেম। ট্রেনটির নকশাগত গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হলেও পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রেনটির নকশা থেকে শুরু করে প্রোটোটাইপ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।

এই ট্রেনটি জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন ও সোনিপতকে সংযুক্ত করবে। যাত্রাপথে এটি জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্ডারা, ললিত খেরা, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি, বুতানা, খান্দরাই, রাবরাহ, লাঠ, মোহানা ও বারওয়াসনিসহ বেশ কয়েকটি স্টেশনে থামবে।

এর আগে জার্মানি, জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র হাইড্রোজেনচালিত রেল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। জার্মানি বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করে ২০২২ সালে রেকর্ড গড়েছিল। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোও নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই ট্রেন পরিচালনা করছে। ভারতের এই উদ্যোগ দেশটির রেল খাতের আধুনিকায়ন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।