জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
বাণিজ্যিক ও বেসামরিক খাতে ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদিত এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে দেশটির নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।প্রায় ত্রিশ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মোট আর্থিক মূল্যমান কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধান অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে।
ফলে অন্যান্য দেশের প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো এই বাজার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে। চুক্তির বিধান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ পর্যালোচনার সাপেক্ষে দেশটির নির্ধারিত পারমাণবিক কেন্দ্রে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বিগত দুই হাজার নয় সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত থেকে এটি কিছুটা ভিন্ন, কারণ সে সময় আমিরাতকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকার শর্ত মানতে হয়েছিল।
তবে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে এবং ইসরায়েলের কৌশলগত মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার বিরোধীদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তৈরির পাশাপাশি পারমাণবিক বোমার কাঁচামাল উৎপাদনেও ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে ভবিষ্যতে রিয়াদ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রোধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রচেষ্টার মাঝেই সৌদি আরবের সঙ্গে এমন চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এর আগে দুই হাজার আঠারো সালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে রিয়াদও সেই পথ অনুসরণ করবে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বর্তমান চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্তটি শিথিল করা হয়েছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন