রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ ছড়ানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে ইলন মাস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগস্ট ৭, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ ছড়ানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে ইলন মাস্ক

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী উদ্যোক্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ককে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গভীর বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি কেবল বিতর্কিত রাজনৈতিক মত প্রকাশেই সক্রিয় নন, বরং সচেতনভাবে বর্ণগত বিভাজন, ইসলামবিদ্বেষ এবং উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকে জোরালো করতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। 

তার এই ধরনের প্রকাশ্য অবস্থান বিশ্বজুড়ে সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মাস্ককে ইসলাম ও মুসলিমদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি ইসলামবিরোধিতা অস্বীকার না করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

সমালোচকদের মতে, তার এসব বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রচার করা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়, যেখানে মুসলিমদের একটি সহজাত সংঘাতে লিপ্ত গোষ্ঠী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করা হয়। যদিও মাস্ক নিজে বর্ণবাদী হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা বহন করে। বিশেষ করে ‍‍`গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি‍‍` বা ‍‍`হোয়াইট জেনোসাইড‍‍`-এর মতো অত্যন্ত বিতর্কিত তত্ত্বগুলো নিয়ে তার ধারাবাহিক পোস্ট কোটি কোটি মানুষের ফিডে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়টি কেবল মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণায় আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো এবং তার প্ল্যাটফর্মে অতীতে নিষিদ্ধ থাকা বেশ কয়েকজন উগ্রপন্থীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্তও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সামাজিক বা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্য তার অনুসারীদের মধ্যে ভীতি ও বিভেদ আরও গভীর করে তুলছে।

বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে তিনি যে আদর্শিক পরিবেশ তৈরি করছেন, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বর্ণগত ও সামাজিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে। বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তার এমন রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মিডলইস্ট আই