আগস্ট ১১, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় সম্পূর্ণ নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি উল্টো ইরানের কাছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মার্কিন নাগরিকদের ওপর বিগত বছরগুলোতে চালানো বিভিন্ন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর অবস্থান নেন তিনি।
এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার থমকে থাকা কূটনৈতিক আলোচনা আরও বেশি জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায় যে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই নতুন দাবির কথা স্পষ্ট করেছেন। সাম্প্রতিক সংঘাতে তেহরানের ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে তিনি দাবি করেন যে বিগত কয়েক দশকে ইরানের বিভিন্ন হামলায় যেসব মার্কিন সেনা ও নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকেও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দুই হাজার সালে ইউএসএস কোল জাহাজে হামলার মতো পুরোনো ঘটনাগুলোও এই দাবির আওতায় তুলে ধরেছেন তিনি।ভবিষ্যতের যেকোনো শান্তি চুক্তির বা আলোচনার মূল শর্ত হিসেবে এই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি যুক্ত করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরানের পক্ষ থেকে তেলশিল্পের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নির্দিষ্ট বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তোলার দাবি জানানো হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্ত হিসেবে তেহরান এই বিষয়গুলো সামনে এনেছিল।তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই পাল্টা দাবি দুই দেশের চলমান সমঝোতা প্রচেষ্টাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। একদিকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক চ্যানেলে দেনদরবার—এই দুইয়ের মাঝে বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন