বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মক্কায় হামলা জঘন্য অপরাধ‍‍` সৌদি বাদশাহর তীব্র হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

মক্কায় হামলা জঘন্য অপরাধ‍‍` সৌদি বাদশাহর তীব্র হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মক্কা নগরীকে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী মিলিশিয়া হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। একই সঙ্গে তিনি হুতিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে জঘন্য অপরাধ এবং বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে উসকানি বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাদশাহ সালমান এই কড়া মন্তব্য করেন। সাধারণত সৌদি আরবের দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের বেশিরভাগই ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পরিচালনা করেন। 

ফলে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে বাদশাহ সালমানের সরাসরি এমন বক্তব্যকে বিরল কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি মাসে ইরান সমর্থিত হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায় যে মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়া হুতিদের একটি ড্রোন তারা মাঝআকাশে ভূপাতিত করেছে। হুতি গোষ্ঠী অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা আবদেল-মালিক আল-হুতি সৌদি আরবের এই দাবিকে অসত্য বলে আখ্যা দেন। 

তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রায় ১০ বছর পর পবিত্র মক্কা নগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফ এই শহরেই অবস্থিত। বাদশাহ সালমান দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি সামরিক বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি পবিত্র স্থান, হজ ও ওমরাহ পালনকারী ব্যক্তিবর্গ, সাধারণ নাগরিক ও বাসিন্দাদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বাদশাহ সালমান। গত সপ্তাহে কায়রোতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে তিনি অবহিত করেন। 

পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের প্রধান শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক নৌপথ লক্ষ্য করে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর যে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংকট ছড়িয়ে পড়ে, এই ঘটনাপ্রবাহে তা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

গত শনিবার রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোট। ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংসের পরপরই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগার এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। উপসাগরীয় এই নতুন উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তেলবাহী জাহাজের বিকল্প নৌপথও বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। 

হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানিতে বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের উপকূল ব্যবহার করছিল। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথভাবে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। এই ত্রিপক্ষীয় সামরিক সমঝোতা অনুসারে, অংশীদার তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।