রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ভারত মহাসাগরে হামলার হুমকি

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন জাহাজে হামলার হুমকি ইরানের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

নতুন যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন জাহাজে হামলার হুমকি ইরানের

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করলে ভারত মহাসাগরজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর সব রণতরী ও ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়ে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌ শাখার রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান আলী মোহাম্মাদি শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে আয়োজিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে নতুন কোনো সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইরানি বাহিনী কেবল নিজেদের জলসীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভারত মহাসাগরের সুদূর অঞ্চলেও মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে সুনির্দিষ্ট নিশানা বানিয়ে ধসিয়ে দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মার্কিন দাবিকে সরাসরি মিথ্যাচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের সাত দিনের বিশেষ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং দাবি করেন যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য এই প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একক ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ট্রাম্পের এমন দাবির জবাব দিয়ে কমান্ডার মোহাম্মাদি বলেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং ওমান উপসাগরে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজের গতিবিধি সার্বক্ষণিক আইআরজিসি নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। 

প্রণালি দিয়ে তেলবাহী বাণিজ্যিক ট্যাংকার স্বাভাবিকভাবে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বলে ওয়াশিংটন যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। তিনি সরাসরি মার্কিন প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রণালিতে মার্কিন রণতরী পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে যুক্তরাষ্ট্র যদি বাস্তবিক অর্থেই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, তবে তাদের অন্তত একটি যুদ্ধজাহাজ যেন এখানে নিয়ে আসার সাহস দেখায়। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালিকে ‍‍`ট্রাম্প প্রণালি‍‍` হিসেবে বিকৃত করে একটি কাল্পনিক মানচিত্র পোস্ট করার পর মোহাম্মাদি প্রশ্ন তোলেন, প্রণালিটি যদি ট্রাম্পের নিজস্ব সম্পত্তিই হয়ে থাকে, তবে সেখানে তাঁর নিজস্ব রণতরী ও নৌবহর অনুপস্থিত কেন।

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জলসীমার নিরাপত্তা সুরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিক যুদ্ধের প্রস্তুতি তুলে ধরেন এই ইরানি কমান্ডার। তিনি জানান, যেকোনো ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ইরানি নৌবাহিনী আধুনিক রণকৌশল, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং বাস্তবমুখী অভিযান পরিচালনা পদ্ধতি নিশ্চিত করে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মোহাম্মাদি দাবি করেন যে পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক যুদ্ধের টানাপোড়েনের চূড়ান্ত পরিণতিতে এই অঞ্চল থেকে বিদেশি পরাশক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে যেতে বাধ্য হবে এবং শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় জলসীমাকে আধিপত্যকামী শক্তির প্রভাবমুক্ত করার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত হবে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক হামলার পাল্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর প্রথম বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান। পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই স্বাক্ষরিত চুক্তির পাঁচ নম্বর ধারায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় মুক্ত করে দেওয়া এবং এর সার্বিক নৌ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে ইরানের সার্বভৌম কর্তৃত্বের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল।

তবে সেই কূটনৈতিক সমঝোতা লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানে বিমান হামলা চালায় এবং বিতর্কিত নৌ অবরোধ আরোপ করে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তেহরানের সার্বভৌম জলসীমার অধিকার নস্যাৎ করার লক্ষ্যে পরিচালিত এসব বেআইনি মার্কিন পদক্ষেপের প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া হিসেবেই পরবর্তীতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সব ধরনের আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

মোহাম্মাদি উল্লেখ করেন, এর আগে ইরানের সফল পাল্টা আক্রমণে অঞ্চলে একাধিক মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত হওয়া এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও রাডার স্টেশনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ার কারণে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে কেবল আকাশপথে দূরপাল্লার নজরদারির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ইতিহাসের প্রতিটি সংঘাতই চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করেছে যে ইরানি জাতির সার্বভৌম মর্যাদায় হাত দেওয়া যেকোনো পরাশক্তিকেই শেষ পর্যন্ত অপূরণীয় মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।