শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরাকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে ফ্লাইট চালুর ডাক ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ইরাকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে ফ্লাইট চালুর ডাক ইরানের

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরাকের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগে তৈরি হওয়া বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহার করে নিয়মিত বিমান চলাচল পুনর্বহালের জন্য বাগদাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইরান। নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি সীমিত পরিসরে বিমান অবতরণ শুরু হওয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি বেআইনি ও অমানবিক বলে আখ্যায়িত করেছে।

নিজেদের নির্ধারিত এখতিয়ার অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন ও বেসামরিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার মার্কিন নীতিকে একতরফা আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করেছে তেহরান। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান ও ইরাকের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে দুই দেশের সার্বভৌম সরকারের মধ্যে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।

এর আগে গত সোমবার গভীর রাতে নাজাফ ও ইরানের বিভিন্ন শহরের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ নতুন করে চালু হয়। ইরাকি বার্তা সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সরাসরি ও বিশেষ উদ্যোগের ফলেই নাজাফ রুটে এই সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। তেহরানে নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত ইয়াসির আব্দুলজহরা আল-হাজ্জাজ সংকট প্রসঙ্গে জানান, ইরানগামী কোনো ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করার ব্যাপারে বাগদাদের কোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ছিল না।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, মূলত মার্কিন শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞার আতঙ্কে আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিগুলো বিমানবন্দরে জ্বালানি ও কারিগরি সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই এই আকস্মিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর বাগদাদ, এরবিল ও সুলাইমানিয়ায় ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রতিবেশী দেশের হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীকে স্থলপথে টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগ সয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে হচ্ছে। এই জটিলতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দুই দেশের শিয়া ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা। বিমান যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়ার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে নাজাফ ছাড়াও নাসিরিয়া, কারবালা ও আমারাহ নগরীতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ফ্লাইটরাডারের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা অন্তত ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই ধাক্কায় জর্জিয়া, ওমান এবং আজারবাইজানের সাথে ইরানের একাধিক প্রধান বিমান রুট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এই চরম পরিস্থিতিতে মানবিক অগ্রাধিকার, জরুরি চিকিৎসাসেবা, উচ্চশিক্ষা ও ধর্মীয় সফরের সংবেদনশীলতা তুলে ধরে ইরান-সংশ্লিষ্ট বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর থেকে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার শর্ত শিথিল বা বিশেষ ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইরাক সরকার।