রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত

আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই দাবিকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে দাবি করেন, রিয়াদে আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানটি সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে। হামলার পর লক্ষ্যবস্তু এলাকায় আগুন ধরে যাওয়ার দাবিও করেন তিনি।

মুখপাত্র জানান, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য প্রদেশে সৌদি বিমান হামলার জবাবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় সানা ও অন্যান্য অঞ্চলে ৬০টি বিমান হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, এসব হামলা মিলিয়ে ইয়েমেনে সৌদি জোটের মোট বিমান হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪২০টিতে। হুথি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরোধের জবাব অবরোধ দিয়ে এবং উত্তেজনার জবাব উত্তেজনা দিয়েই দেওয়া হবে।

তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, রিয়াদে হামলার বিষয়ে হুথিদের দাবি পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর। জোট মুখপাত্রের দাবি, নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি এবং বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বাড়তে থাকা গণঅসন্তোষ থেকে দৃষ্টি সরাতেই হুথিরা এমন অসত্য দাবি করছে।

এদিকে রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আরামকোর একটি স্থাপনার আশপাশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে হুথিদের হামলার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল হুথি গোষ্ঠী। সে সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, তায়েফ ও ইয়ানবু অভিমুখে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত করেছে। তখন তেল স্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি রিয়াদ। রিয়াদে নতুন এই হামলার দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন দুই পক্ষের সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়েছে হুথিরা, বিপরীতে ইয়েমেনে বিমান অভিযান জোরদার করেছে সৌদি জোট।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, সম্প্রতি প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আসির প্রদেশে এক এশীয় নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি মসজিদ ও কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাজরান শহরের একটি স্কুল ভবনেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এতে স্কুল ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই দেশটির রাজধানী সানাসহ কয়েকটি কৌশলগত প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে হুথি বিদ্রোহীরা।