সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানা সাত মাসের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র অভ্যন্তরীণ জ্বালানি টানাপোড়েনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ পদে পরিবর্তন এলো। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মেহদি তাবাতাবাই জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পাকনেজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। 

পদত্যাগের পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানি এনআইওসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের প্রধান তেল উত্তোলনকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে থাকে। পাকনেজাদ ঠিক কী কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে তার আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মোহসেন পাকনেজাদ। পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য রাষ্ট্রে প্রায় দুই বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তার পুরো কার্যকাল জুড়েই ইরানকে আন্তর্জাতিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি এবং তেল রপ্তানি সুরক্ষার বহুমুখী ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

আকস্মিক পদত্যাগের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ বক্তব্যে তেল বিক্রি ও রাজস্ব প্রবাহ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন পাকনেজাদ। আন্তর্জাতিক নানা বাধা ও অবরোধ সত্ত্বেও তেল বিক্রির অর্থ যথাসময়ে ইরানের অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন। একই সঙ্গে এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন।

সেই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই তার সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণা আসে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন নাটকীয় পটপরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ ইরান সরকার পরিষ্কার করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন নাকি তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে ঘন ঘন বিপর্যয় এবং তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গভীর মতবিরোধ এই আকস্মিক রদবদলের কারণ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স