অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য স্থল হামলা ঠেকাতে বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে ইরান। রাজধানী তেহরানের একাধিক সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি নারীদেরও আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর নিবিড় প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) তেহরানের প্রাণকেন্দ্র ইমাম হোসেইন স্কয়ারের একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নারীরা সরাসরি এই অনুশীলনে যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত সামরিক কর্মকর্তা ও পেশাদার প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে কারিগরি দিকনির্দেশনা নিয়ে নারীরা ভারী আগ্নেয়াস্ত্র এবং এমনকি হ্যান্ডগান বা ছোট পিস্তল চালানোর বাস্তবমুখী কৌশল রপ্ত করেন।
এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) তেহরানের হাফত-ই তির স্কয়ারে বেসামরিক নাগরিকদের যুদ্ধের উপযোগী করে তুলতে নতুন আরেকটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলি বাহিনী যদি স্থলপথে সামরিক অভিযান চালায়, তবে সাধারণ জনগণকে নিয়েই তা প্রতিহত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতেও ইমাম হোসেইন স্কয়ারের একই কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের জন্য এমন প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অংশ নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী ইরানি নারী রাহেলেহ ঘাদিরি জানান, যুদ্ধাবস্থার মধ্যে নিজের পরিবার ও প্রতিবেশী এলাকাকে কীভাবে সশস্ত্র উপায়ে রক্ষা করতে হবে, সেই কৌশল জানা থাকলে তার মনের ভয় অনেকটাই কমে আসবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সাত মাসব্যাপী তীব্র সংঘাতের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ৪০ দিনের সংঘাতের সাময়িক অবসান ঘটলেও অঞ্চলটিতে থেমে থেমে বিচ্ছিন্ন সশস্ত্র সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন কিংবা তেল আবিব যদি পুনরায় কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে তেহরান এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সর্বাত্মক ও কঠোর জবাব দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন