অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একত্রিত হচ্ছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নীতি-নির্ধারণী শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তিন দেশের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা জোরদারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠকে দেশটির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। পাকিস্তান সরকার উল্লেখ করেছে, রিয়াদের এই যৌথ বৈঠকে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মূলত আঞ্চলিক শান্তি ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রতি ইসলামাবাদের অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বৈঠকে আঙ্কারার প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু। বৈঠকে অংশ নিয়ে হাকান ফিদান এই উদীয়মান প্রতিরক্ষা জোটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক রূপরেখা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি বিদ্যমান হুমকি এবং মিত্র দেশগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে এমন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে যৌথ মূল্যায়ন করবেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। সাম্প্রতিক হুথি হামলার মুখে সৌদি আরবের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি তুরস্কের অটুট সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে মুক্ত চলাচল ও সামগ্রিক জলসীমার নিরাপত্তা অটুট রাখার অপরিহার্যতার ওপরও জোর দেবেন তিনি।
উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এমন যেকোনো একতরফা সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উপায়ে আঞ্চলিক বিরোধ মেটানোই এই জোটের মূল অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় এক ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে `মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি` স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরোধ ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে তিন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা এবং বহিরাগত কোনো বৈরী হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা। ঐতিহাসিক এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়ন ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতেই কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে এই কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই উদ্বোধনী পর্বে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দাঁড় করানো এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন