বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
নেতৃত্বের সংকট

খামেনির মৃত্যুর পর নেতৃত্বশূন্য ইরান! কে চালাচ্ছে দেশটি, প্রশ্ন ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

খামেনির মৃত্যুর পর নেতৃত্বশূন্য ইরান! কে চালাচ্ছে দেশটি, প্রশ্ন ট্রাম্পের

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের আট মাস পার হয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরানের মধ্যকার বাকযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটি কারা পরিচালনা করছে, তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ইরানে কোনো স্পষ্ট নেতৃত্ব অবশিষ্ট নেই। কে এই দেশ চালাচ্ছে, সে বিষয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রধান সারির প্রায় সব শীর্ষ নেতা নির্মূল হয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রথম সারির নেতারা চলে গেছেন, এমনকি দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বের দলটিও শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কেউ জানেই না যে দেশটি আসলে কে চালাচ্ছে।’

দীর্ঘ আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের পরও তেহরানের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটনের এই অস্পষ্টতার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেন। বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটন খুব ভালো করেই জানে ইরানে তাদের প্রতিপক্ষ কারা এবং দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়।

তাঁর মতে, সমস্যাটি আসলে ইরানের নেতৃত্বের অভাব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান এবং তাদের মিশ্র বার্তার কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক সামরিক হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

বাবার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনো ভূমিকা রাখছেন না। খামেনিকে হত্যার ওই একই হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয় সারির একাধিক কমান্ডার নিহতের ফলে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক শূন্যতা বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা জন্ম দিয়েছে।