অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরেছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) তার আইনজীবী দল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী এই কারাবন্দিকে ডেবরা কে. জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ সালে নিজ সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছিল কারা প্রশাসন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে প্রাণঘাতী বিষাক্ত ওষুধের দুটি ধারাবাহিক ডোজ প্রয়োগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
ওষুধ প্রয়োগের পর জটিলতা দেখা দিলে একপর্যায়ে পাইককে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র বা ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়েছিল।
পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়, তিনি পূর্ণ চেতনা ফিরে পান, কথা বলতে সক্ষম হন এবং অন্য ব্যক্তিদের সহায়তা নিয়ে হাঁটাচলা করতে শুরু করেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মানব ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত মুহূর্তে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি হলেন এই ক্রিস্টা পাইক।
প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের এই প্রচেষ্টা কেন ব্যর্থ হলো, সে বিষয়ে টেনেসি সংশোধন বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
তবে চিকিৎসা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাইকের শরীরের শিরায় তরল ওষুধ প্রবেশের নল বা ক্যানুলা যথাযথভাবে স্থাপন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। এর ফলে বিষাক্ত ওষুধ সরাসরি মূল রক্তপ্রবাহে না গিয়ে চামড়া ও পেশির টিস্যুতে জমা হয়েছিল। পাইকের আইনজীবীরাও আদালতে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক আইনি নথিতে শিরায় নল স্থাপনে মারাত্মক চিকিৎসা ত্রুটির অভিযোগ এনেছেন।
এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে নির্ধারিত অন্য সব আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশদ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর অঙ্গরাজ্যটির কারা বিভাগের প্রধান নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন