অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনে বাংলাদেশের একাংশের ইন্ধন রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়ায় একটি শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ উদ্বোধনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, এ আন্দোলনের নেপথ্যে কারা সক্রিয় এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক পোস্ট পর্যবেক্ষণ করলেই স্পষ্ট বোঝা যাবে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ একাধিক শহরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন যে যারা বিদেশ থেকে ভারতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্ত করছে, তাদের প্ররোচনাতেই বিক্ষোভকারীরা এসব কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি বলেন, অতীতে যারা পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ত, তারা এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে।
দিল্লির এই অস্থিরতার পেছনে আরও কয়েকটি বিদেশি রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ আর্থিক মদদ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুসারে, দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে প্রচুর অর্থ আসছে। এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ ঠেকাতে ভারত সরকার সংসদে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট সংক্রান্ত একটি নতুন আইন প্রস্তাব করছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য অনুদানের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা। তবে সেই আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বিক্ষোভ চালানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংহতি জানানোয় তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই বিজেপি সভাপতি।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বিরোধী দলগুলোর বর্তমানে কোনো গঠনমূলক কাজ নেই। তাই পূজা এলে কিছুটা আনন্দ উদযাপন আর শীত নামলে ধরনা কর্মসূচি পালন করাই তাদের একমাত্র রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে।
জনগণের রাজনৈতিক সমর্থনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও মন্তব্য করেন যে যেসব রাজনৈতিক দলকে সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের দাঁড়ানোর কোনো শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। ফলে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তারা আরশোলার ডানা আঁকড়ে ধরে ঝুলতে চাইছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন