অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
ভারতে দুই সহকর্মী রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে ফের বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে আগামী শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় দিল্লির ঐতিহ্যবাহী কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ‘তেরঙা ওড়াও’ শিরোনামের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের প্রতি প্রকাশ্য অনুরোধ রেখেছেন।
দলীয় দুই শীর্ষ নেতার মুক্তির দাবিতেই মূলত এই প্রতিবাদের ডাক এসেছে। দলের সক্রিয় নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এক ভিডিওবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দীপকে। তাঁর দাবি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনো অবস্থাতেই ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে না। এই প্রতিবাদের মাধ্যমে তারা ভারতের জাতীয় পতাকার প্রতি নিজেদের গভীর শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও গর্বের বার্তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান।
ভিডিওবার্তায় দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে দীপকে বলেন, সৌরভ ও আশুতোষকে শুধুমাত্র জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অপরাধে আটক করে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা দেশকে ভালোবাসেন এবং জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানান, তাদের সবাইকে আগামী শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে উপস্থিত হওয়ার জোর তাগিদ দেন তিনি।
একই সাথে তিনি বিকল্প কৌশলও ঘোষণা করেছেন।
যারা দূরত্বের কারণে রাজধানীর সেন্ট্রাল পার্কের মূল কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন না, তাদের নিজ নিজ শহর ও এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সমবেত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘তেরঙা অভিযান’ আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি। দীপকের মতে, জাতীয় পতাকা প্রতিটি নাগরিকের আত্মমর্যাদার প্রতীক, তাই তা হাতে নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচি পালন কোনো আইন লঙ্ঘন নয়।
এই চলমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে পূর্ববর্তী একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দিল্লির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমোদিত তালিকার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সরকারি নির্দেশনার ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ ও আন্দোলনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গত মঙ্গলবার দলটির একদল নেতাকর্মী যন্তর মন্তরে গিয়ে লোহার ব্যারিকেড টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং দেশপ্রেমমূলক স্লোগান দেন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে এবং পরবর্তীতে সৌরভ ও রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার দেখায়। বর্তমানে এই দুই রাজনৈতিক নেতা দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন