অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে কেবল সামরিক পেশিশক্তি নয়, বরং কূটনীতিকেও কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে ইরান। বুধবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওয়াশিংটনকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তেহরানের সঙ্গে বৈরী আচরণের জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে ছাড় দিতে বাধ্য হতে হবে। ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক আগ্রাসন রুখতে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক দরকষাকষির সমন্বিত নীতি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সই করা নথিতে কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। গালিবাফ উল্লেখ করেন, কেবল লিখিত কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে হামলার ঝুঁকি দূর করতে পারে না। ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, শুধুমাত্র চুক্তির ওপর ভরসা করে কোনো রাষ্ট্র নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে না। আবার বিপরীতভাবে, অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কিংবা উত্তেজনা বাড়িয়েও হুমকি থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা অসম্ভব।
প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে সামরিক শক্তিমত্তা ও কূটনৈতিক আলোচনার যৌথ সমীকরণে।
ইরাকের সঙ্গে আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা টেনে ইরানি স্পিকার বলেন, সে সময় চরম ক্ষতি স্বীকার করেও তেহরান এমন এক সামরিক সমীকরণ তৈরি করেছিল, যা পরবর্তী কয়েক দশক তাদের ওপর বহিঃশত্রুর বড় হামলা ঠেকিয়ে রেখেছিল। প্রতিরোধ কেবল অস্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। জাতীয় সংহতি, আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক দৃঢ়তা ও সামাজিক ধৈর্য একসঙ্গে মিলেই পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ তৈরি হয়।
ইরানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নিজেদের সক্ষমতা এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে ওয়াশিংটন বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক পক্ষ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিতে না পারে।
স্পিকারের দাবি, ১২ দিনের যুদ্ধ ও পরবর্তী সংঘাতের সময় ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের অগ্নিশক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অভাবনীয় গতিতে বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালীতে ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কৌশলগত উপস্থিতি।
সামরিক বিজয়কে রাজনৈতিক ও আইনি সম্পদে রূপান্তর করাই ইরানের বর্তমান লক্ষ্য।
তিনি স্পষ্ট জানান, সংঘাত ও আলোচনার যুগপৎ কৌশলের অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ চিরকাল চলবে কিংবা আলোচনা কখনো শেষ হবে না। বরং এর উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা। যুক্তরাষ্ট্র দাবি না মানলে তাদের পরাজয় নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ছাড় দিতে বাধ্য হয়।
দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। বর্তমান সংকটময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কূটনীতি ও শক্তির সমন্বয়ে কীভাবে বদলানো যায়, এখন সেটাই তেহরানের প্রধান নজর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন