অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বয়সের মাপকাঠিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন খারিজ করে শিশুদের অনলাইন পরিসরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শুক্রবার ভারতের শীর্ষ আদালত এক তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছে যে দেশটির সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ এবং ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে ইন্টারনেট সংযোগ ও ব্যবহারের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের অলঙ্ঘনীয় মৌলিক অধিকার। বয়স যা-ই হোক না কেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুরাও এই সমঅধিকার ভোগ করার আইনগত অধিকারী। স্বাধীনতা ও সুরক্ষা আসলে আলাদা নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিশুদের সুরক্ষাবলয় তৈরি এবং তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা কখনোই পরস্পরবিরোধী ধারণা হতে পারে না। ঢালাওভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বদলে পরিবারে অভিভাবকদের পর্যবেক্ষণ জোরদার করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু এবং যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নমূলক অবৈধ সামগ্রী তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারনেট থেকে অপসারণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে আদালত।
ইন্টারনেট দুনিয়ায় শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি ও ভিডিওর অবাধ বিস্তার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি বিশেষায়িত জাতীয় ডেটাবেস তৈরির সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
পাশাপাশি ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে তা সরিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে প্রতিটি আপত্তিকর ইউআরএল তালিকাভুক্তকরণ, ডিজিটাল শনাক্তকারী তথ্যের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা ও পূর্ণাঙ্গ কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো ও দায়িত্বশীল সরকারি সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। বিচারিক প্যানেল জানায়, শিশুদের সাইবার নিরাপত্তায় কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইন্টারনেটের কোনো প্ল্যাটফর্মেই শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়নমূলক কনটেন্টের ন্যূনতম স্থান থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন