মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ছড়ানো ভিডিও ভুয়া জানাল কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ছড়ানো ভিডিও ভুয়া জানাল কর্তৃপক্ষ

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিককে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদির পবিত্র দুই মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য স্পষ্ট করা হয়।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সিঁথি নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির সরকার। ওই দণ্ড কার্যকরের ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পবিত্র কাবা শরিফের হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরের কাছে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি এক নারীকে মাথায় ধাক্কা দিচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ওই দুজনই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সেই বাংলাদেশি নাগরিক।

তবে এই দাবি পুরোপুরি অসত্য।

পবিত্র দুই মসজিদ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ভিডিওটি যে বিবরণ বা তথ্যের সাথে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে তা মিথ্যা এবং এটি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত বা কোনো প্রমাণ নয়।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে কেবল উল্লেখ করা হয়, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার দায়ে নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামের দুজনের সাজা কার্যকর করা হয়েছে। এর বাইরে ঘটনার কোনো বিস্তারিত তথ্য কিংবা তারা কোথায় সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়নি। এমনকি কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা-ও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সম্প্রতি নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে কিছু পারিবারিক তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত নজরুল ইসলাম প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাবন্দি থাকাকালে তিনি প্রতি সপ্তাহে এক দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পেতেন। তবে পরিবারের কাউকে কোনো প্রকার পূর্বতথ্য বা নোটিশ না দিয়েই গত ১৪ অক্টোবর আকস্মিকভাবে তাঁর এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ।