অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক দুই দফা সংঘাতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে পুনর্গঠিত করেছে। দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি দাবি করেছেন, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যেকোনও পরিস্থিতিতে অসম যুদ্ধের জন্য নিজেদের বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী সামরিক ড্রোন তৈরির একটি বিশেষ স্থাপনা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেনাপ্রধান জানান, ইরানের সেনাবাহিনী আধুনিক ড্রোন উৎপাদন, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ এবং কৌশলগত রক্ষণাবেক্ষণের কার্যক্রমে সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। শুধু অস্ত্র তৈরিই নয়, সংঘাত চলাকালীন সময়ে এসব উন্নত প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
আধুনিক রণাঙ্গনে চালকবিহীন সমরাস্ত্রের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন হাতামি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পাল্লার সামরিক ড্রোন, চালকবিহীন যুদ্ধজাহাজ ও দ্রুতগতির নৌযান এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ড্রোন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই সামগ্রিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রযুক্তিগত মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষণে অসম যুদ্ধ বলতে এমন এক যুদ্ধকৌশলকে বোঝায়, যেখানে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যকার সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি, প্রচলিত অস্ত্রাগার এবং অর্থনৈতিক সম্পদের মধ্যে স্পষ্ট ও ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা থাকে।
এমন সংঘাতে তুলনামূলক দুর্বল পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধের পথে না হেঁটে বিকল্প কৌশল বেছে নেয়। প্রতিপক্ষের শক্তিশালী অবস্থানের বিপরীতে ড্রোন হামলা, নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত সরে পড়া এবং সমুদ্রপথে বিকল্প অবরোধের মতো কলাকৌশল প্রয়োগ করাই এর মূল ভিত্তি।
ইরানের সামগ্রিক জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে ড্রোন উৎপাদন এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। স্বল্প খরচে বিপুলসংখ্যক সামরিক ড্রোন তৈরি এবং বিভিন্ন অভিযানে সেগুলোর সফল ব্যবহার তেহরানের সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত।
তবে আমির হাতামি প্রস্তুতি বৃদ্ধির কথা জোর দিয়ে জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। ড্রোন উৎপাদন ঠিক কতটা বাড়ানো হয়েছে, নতুন কোনো মডেলের প্রযুক্তি বা গোপন অস্ত্র যুক্ত হয়েছে কি না, কিংবা সম্ভাব্য সরাসরি যুদ্ধের সময় এগুলো কীভাবে রণক্ষেত্রে মোতায়েন করা হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেননি তিনি।
ইরানের সামরিক কাঠামোয় মূল সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সমান্তরালভাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে থাকে। দুই পরাশক্তির সঙ্গে সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর যে নীতি তেহরান নিয়েছে, সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য তারই ধারাবাহিকতা বহন করে।
তবে সামরিক পর্যবেক্ষকরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য দেশটির একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক অবস্থান ও দাবি। স্বতন্ত্র বা নিরপেক্ষ কোনো উৎস থেকে বিস্তারিত যাচাই না করে এর ওপর ভিত্তি করে ইরানের মাঠপর্যায়ের প্রকৃত যুদ্ধ সক্ষমতা বা ভবিষ্যৎ সংঘাতের ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন