বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

পিলখানা হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

পিলখানা হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন

পিলখানা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পূর্ণ হলো। সেই পৈশাচিক ঘটনায় প্রাণ হারান ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নাগরিক। গত বছর এই দিনটিকে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। 

দিবসটি উপলক্ষে আজ বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনো বিচারিক আদালতের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক আইনের এই মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি করা হচ্ছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তার পাশাপাশি ওই সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী এই ব্যক্তিদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মূল হত্যা মামলাটি বর্তমানে উচ্চতর আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। 

বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। অন্যদিকে, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এ মামলায় ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে গত ১৬ বছরে মাত্র ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মতে, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক আসামি বিনা বিচারে দীর্ঘকাল কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে উল্লেখ করেছেন যে, পিলখানায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী একটি বড় ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে বর্তমান বাংলাদেশে সেই নেপথ্য কারণগুলো জনগণের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে। 

সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শপথ করেন যে, ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে এমন ষড়যন্ত্র করার সাহস না পায়, তার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।