বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

‘পেট কেটে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়’

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

‘পেট কেটে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়’

আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন মুন্নী আক্তার

সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সদস্যকে গুম ও নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ শুনানি চলাকালীন নিহত বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিকের স্ত্রী মুন্নী আক্তার তাঁর স্বামীর ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন। 

সাক্ষ্যপ্রদানকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল।আদালতে মুন্নী আক্তারকে জেরা করেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটু। 

জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন যে, শরণখোলা থানা থেকে নজরুল ইসলাম মল্লিকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা জানানো হয়েছিল কি না। এর জবাবে মুন্নী আক্তার অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, শ্বাসরোধে হত্যার দাবিটি সঠিক নয়। থানা থেকে তাদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তাঁর স্বামীকে গুম করার পর হাত-পা বেঁধে এবং পেট কেটে সিমেন্টের বস্তায় ভরে হত্যা করা হয়েছে। 

নজরুলের স্ত্রীর এমন বক্তব্যে আদালত কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে মুন্নী আক্তার আদালতকে জানান যে, তাঁর স্বামী নজরুল ইসলাম মল্লিক ২০০৯ সালের পিলখানা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি মনে করেন, সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার কারণেই তাঁর স্বামীকে সাবেক প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশে বা পরিকল্পনায় গুম করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

লোকমুখে এবং বিভিন্ন সূত্রে তিনি স্বামীর এই মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনতে পান বলে আদালতকে অবহিত করেন।দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বিডিআর সদস্য নজরুলের ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হওয়ায় নিহতের পরিবার ন্যায়বিচারের আশা করছে। 

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, বিগত সরকারের আমলে তাঁর নেতৃত্বে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় ছিল। ট্রাইব্যুনাল এই মামলার নথিপত্র এবং সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।