বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

পলকের নির্দেশেই বন্ধ হয় ইন্টারনেট: বিটিআরসি কর্মকর্তার সাক্ষ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

পলকের নির্দেশেই বন্ধ হয় ইন্টারনেট: বিটিআরসি কর্মকর্তার সাক্ষ্য

ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সরাসরি নির্দেশেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের একজন উপ-পরিচালক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। 

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তার খাতিরে তার নাম পরিচয় গোপন রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। মামলার চতুর্থতম সাক্ষী হিসেবে বৃহস্পতিবার তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তিনি বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সেই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান তাকে টেলিফোন করে একটি জরুরি নির্দেশনা দেন। 

মহাপরিচালক জানান যে, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বিটিআরসি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদকে আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অপারেটরদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য একটি মাধ্যম তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।বিটিআরসির সেই কর্মকর্তা জানান, মহাপরিচালকের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই তিনি তার অফিশিয়াল মোবাইল ফোন থেকে ‍‍`১৮ জুলাই আইসিটি অপারেশন‍‍` নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেন। 

সেই গ্রুপে তৎকালীন মহাপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানসহ সামিট কমিউনিকেশনস, ফাইবার অ্যাট হোম, নভোকম, বিডি লিংক, ম্যাঙ্গো টেলিকমিউনিকেশন, বিটিসিএল এবং বিএসপিএলসির শীর্ষ প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়। গ্রুপটি খোলার পর মহাপরিচালক একটি গ্রুপ কল করেন এবং সেখানে উপস্থিত সবাইকে সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বা আপস্ট্রিম বন্ধ করার চূড়ান্ত নির্দেশনার কথা জানান। এরপর রাত ৯টার দিকে অপারেটরদের মাধ্যমে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ১৮ জুলাই রাত ৯টা থেকে পরবর্তী ২৩ জুলাই বিকেল পর্যন্ত দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। এরপর ২৩ জুলাই সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আইআইজি এবং মিডিয়া প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা করেন। সেই সভায় তিনি ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো বন্ধ রেখে কেবল গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা যেমন ব্যাংক, জাতীয় সংসদ ভবন ও সেনানিবাস এলাকায় সীমিত আকারে ইন্টারনেট চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই তৎকালীন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পুনরায় পুরোপুরি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি কর্মকর্তার এই জবানবন্দি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে নতুন মাত্রা যোগ করল। আদালত এই সাক্ষ্য গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারি এই কর্মকর্তাদের বয়ান থেকে এটি স্পষ্ট যে ইন্টারনেট শাটডাউন কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল না, বরং সেটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।