জুন ১৫, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ আসামির সাজার বিস্তারিত বিবরণসহ ৮০৯ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানান এবং রায়ের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন।
গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় প্রকাশ করে।রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার তথ্য-অনুসন্ধানকারী মিশনের ফরেনসিক প্রমাণ দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, রাষ্ট্র-নির্দেশিত সহিংস দমননীতির অধীনে পুলিশের সদস্যরা আবু সাঈদকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে। ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপিত ভিডিও প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত দমনের অংশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ১৯৭৩-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞার আওতায় এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, আবু সাঈদের মৃত্যু একাধিক আঘাতের ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে হয়েছে, যার মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির চিহ্ন রয়েছে। গত ৯ এপ্রিল ঘোষিত এই রায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ কমিশনারসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার রায় যাচাই-বাছাই করে প্রসিকিউশন পক্ষ আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। বিচারের এই রায় জুলাই বিপ্লবের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন