রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল স্থগিত চেয়ে আবেদন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল স্থগিত চেয়ে আবেদন

রাজধানীর মগবাজারের ঐতিহ্যবাহী আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে সেখানে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের নিয়মিত সেবাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিশেষ অনুমতি চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্পূর্ণ মানবিক কারণ বিবেচনা করে দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার সন্ধ্যায় আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল এই বিশেষ দাপ্তরিক আবেদনের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বর্তমানে এই বড় চিকিৎসা কেন্দ্রে সর্বমোট ১১০ জন জটিল রোগী ভর্তি রয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেরই শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন।এই অবস্থায় রোগীদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে তাঁদের জীবনঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগে গত সোমবার হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক জামালুন্নেসার সই করা ওই জরুরি আবেদনে বলা হয় যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকে এই লাইসেন্স বাতিলের আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব দ্রুত সরকারের উচ্চপর্যায়ে আপিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে বলেও প্রেরিত চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। 

আবেদনের তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণের আধুনিকায়ন, ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচল ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং মেডিকেল কলেজ ভবনের ভেতরে পরিচালিত বাণিজ্যিক বেকারি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।বর্তমানে এই প্রাঙ্গণে চিকিৎসাধীন ১১০ জন অভ্যন্তরীণ রোগীর একটি বিশাল অংশই মূলত সদ্যজাত নবজাতক এবং ছোট শিশু। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র ও এইচডিইউতে ৯ জন, সিসিইউতে ২ জন, এনআইসিইউতে ৪৩ জন, শিশু ওয়ার্ডে ২৯ জন এবং প্রসূতি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন কেবিনে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভর্তি থাকা এই রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিকল্প হিসেবে ইতিমধ্যে রাজধানীর অন্য ছয়টি হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে অনেক রোগীর দরিদ্র পরিবারই আর্থিক অনটন ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে এই মুহূর্তে এমন তাৎক্ষণিক দূরবর্তী স্থানান্তরকে অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে লাইসেন্স বাতিল স্থগিত করার জন্য চিঠিতে বিশেষভাবে আর্জি জানিয়েছে আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ।