জুন ২২, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুমের বর্ণনা দিয়ে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁর সাবেক দেহরক্ষী সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। গতকাল ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া এই বিশেষ জবানবন্দিতে সেনাবাহিনীর এই ওয়ারেন্ট অফিসার তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় ১৫০ থেকে ২০০ ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে হত্যা করতে দেখেছেন বলে সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করেন। শতাধিক গুম ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক এই র্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের ৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি আদালতের সামনে এই রোমহর্ষক তথ্য তুলে ধরেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতেই তাঁর এই দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত রানার বা দেহরক্ষী একের পর এক গুম ও খুনের বিবরণ দেন।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১০ সালে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখায় পোস্টিং পাওয়ার পর তাঁকে জিয়াউল আহসানের রানার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন পর এক রাতে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে টঙ্গীর রেললাইনের পাশে নিয়ে একটি ঠাণ্ডা মৃতদেহ ট্রেনের লাইনের ওপর ফেলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিডিআর বিদ্রোহের পর অপারেশন রেবেল হান্ট চলাকালে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন সদস্যকে ইনজেকশন পুশ করে অথবা সিমেন্টভর্তি বস্তার সাথে বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। উত্তরা, পোস্তগোলা এবং কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় একাধিক সাজানো ক্রসফায়ার ও হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।
উত্তরা নর্থ টাওয়ার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির নামে চারজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ২০১২ সালের শুরুতে ১১ জন আসামিকে তিনটি মাইক্রোবাসে করে পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন নদী এলাকায় নিয়ে আগের মতোই হত্যা করে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাফলং সীমান্তে ভারতীয় পক্ষের কাছ থেকে দুই আসামিকে বুঝে নিয়ে ফেরার পথে এবং র্যাব-৪-এর সেফ হাউস থেকে নেওয়া অন্য আসামিদেরও নির্জন স্থানে গুলি করে হত্যা করা হয়। দেশের জন্য শপথ নিয়ে সাধারণ মানুষকে এভাবে হত্যা করার গ্লানি ও বিবেকের তাড়না থেকেই তিনি আদালতে এই জবানবন্দি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
আলোচিত বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সাথেও জিয়াউল আহসানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জবানবন্দিতে দাবি করা হয়। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে এই ঘটনার পর র্যাব সদর দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজ ও অস্ত্রাগারের রেজিস্টার সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। সে সময় জিয়াউল আহসান ফোনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন যে আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে কীভাবে হবে। জবানবন্দি গ্রহণের সময় আদালতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন