মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ৫ নভেম্বর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ৫ নভেম্বর

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে আগামী ৫ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক প্রতিবেদন জমার জন্য নতুন এই তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন।

রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শাহ আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও পরস্পরের যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর পর রমনা থানায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীর করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেন। সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় পরদিন ২১ অক্টোবর মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তার বোন ও সালমানের মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান যে সালমান তখন ঘুমাচ্ছিলেন।

কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম মুঠোফোনে জানান যে সালমানের শারীরিক কোনো সংকট তৈরি হয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে তারা শোবার ঘরে সালমানকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত ও পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ জানান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা সালমানের গলায় রশির স্পষ্ট দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান যে তাকে হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

সালমান শাহের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবদ্দশায় ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

আবেদনে তিনি অপমৃত্যু মামলাটিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দিয়ে তদন্ত করানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে আইনগত প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরস্পর যোগসাজশ করে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে বাদীপক্ষে অভিযোগ বহাল রাখা হয়েছে।