মে ১৭, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণকে অবহেলা করলে শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি বিকল হতে পারে। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্রাবের তীব্র জ্বালাপোড়া কিংবা ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো সাধারণ সমস্যা দেখা দিলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক রূপ নেয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক দিনকয়েকের সঠিক চিকিৎসায় এটি ভালো হয়ে গেলেও এই ধরণের স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া একদমই উচিত নয়।
শরীরের এই সংক্রমণ যতক্ষণ পর্যন্ত কেবল মূত্রথলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ বড় কোনো বিপদ ঘটে না।কিন্তু এই ক্ষতিকর ইনফেকশন কোনোভাবে মূত্রনালী বেয়ে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে গেলেই তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মূলত `ই. কোলাই` নামক এক বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার কারণে মূত্রনালীতে এই ক্ষতিকর সংক্রমণের সৃষ্টি হয়ে থাকে যা পরবর্তীতে মূত্রথলি ও মূত্রনালীকে সরাসরি আক্রান্ত করে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর তরল বা পানি পান না করা এবং নোংরা পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের কারণে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
এছাড়া চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট লিখিত পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন ভুল অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কারণেও অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হন।শরীরে এই দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ পুষে রাখলে শেষ পর্যন্ত কিডনি ড্যামেজ বা সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার বড় আশঙ্কা থাকে। কিডনিতে ইনফেকশন ছড়ালে রোগীর শরীরে কিছু বিশেষ উপসর্গ যেমন প্রচণ্ড জ্বর হওয়া, কাঁপুনি দিয়ে তীব্র ঠান্ডা লাগা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে স্পষ্ট রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এছাড়া প্রস্রাব করার সময় তীব্র অস্বস্তি, বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া কিন্তু সামান্য প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং তলপেটে বা কোমরের নিচের অংশে অবিরাম ব্যথা হওয়া এর অন্যতম সাধারণ লক্ষণ।
সাধারণত যেকোনো বয়সের মানুষ এই ইউরিন ইনফেকশন দ্বারা আক্রান্ত হতে পারলেও প্রবীণ ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, গর্ভবতী নারী এবং যাদের শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক দুর্বল তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
এই মারাত্মক রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকতে হলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরকে সবসময় হাইড্রেটেড রাখলে মূত্রনালীতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো খুব সহজেই প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার ক্ষতিকর অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে যেকোনো ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন