অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
উৎসব এলে নিজের সাজবদল নিয়ে যেমন ব্যস্ততা থাকে, তেমনই চার দেওয়ালের অন্দরেও একটু নতুন ছোঁয়া আনতে ইচ্ছে করে। নতুন কিছু না কিনেও অনেক সময় শো-পিসের জায়গা বদল, বিছানায় নতুন চাদর, রঙিন কুশন কভার, জানলা-দরজায় নতুন পর্দা কিংবা টেবিলে একটি নতুন ম্যাট দিয়েই ঘরের চেহারা অনেকটাই বদলে ফেলা সম্ভব। তবে ঘরের সাজে যদি একটু বড় পরিবর্তন আনতে চান, তাহলে কার্পেট বা গালিচা বদলে দেখতে পারেন। বিশেষ করে বসার ঘরে উৎসবের আবহের সঙ্গে মানানসই একটি কার্পেট বিছিয়ে দিলে পুরো ঘরের লুকই বদলে যায়। দেয়ালের রং, পর্দা, আসবাব ও অন্যান্য সাজসজ্জার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্পেট বেছে নিলে অন্দরসজ্জায় আসে পরিপূর্ণতা। তবে কার্পেট কিনতে গেলেই তো হলো না, ঘরের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী কোন ধরনের গালিচা মানানসই, সেটিও মাথায় রাখতে হবে।
বসার ঘরের সাজে প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহ আনতে পাট বা জুটের তৈরি গালিচা বেছে নিতে পারেন। ঘরে যদি ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী, হস্তশিল্প কিংবা হাতে তৈরি কোনো সাজসজ্জার জিনিস থাকে, তাহলে এ ধরনের গালিচা সেগুলোর সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। এতে ঘরের সাজে একটি স্বাভাবিক ও রুচিশীল ভাব ফুটে ওঠে। পাটের গালিচা শুধু ঐতিহ্যবাহী অন্দরসজ্জার সঙ্গেই নয়, আধুনিক কিংবা ট্র্যাডিশনাল—সব ধরনের ঘরসজ্জার সঙ্গেই চমৎকার মানিয়ে যায়। অন্যদিকে, ঘরে আরও আরামদায়ক ও উষ্ণ অনুভূতি আনতে চাইলে শ্যাগি কার্পেট বেছে নিতে পারেন। এগুলো সাধারণত ঘন ও নরম ধরনের হয়। পায়ের নিচে রাখলে বা এর ওপর বসলে বেশ আরামদায়ক অনুভূতি পাওয়া যায়, তাই ঘরকে আরও কোজি করে তুলতে এ ধরনের গালিচার জুড়ি নেই। বিশেষ করে বেডরুমে শ্যাগি কার্পেট বেশ মানানসই, আর প্যাস্টেল রঙের হলে ঘরের সাজে যোগ হতে পারে নরম ও শান্ত আবহ।
অন্দরসজ্জায় বোহেমিয়ান ছোঁয়া আনতে চাইলে ফেল্টের গালিচা বেছে নেওয়া যেতে পারে। উৎসবের দিনে ঘরকে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তুলতে এমন গালিচা দারুণ আকর্ষণীয় হয়। তবে শুধু গালিচা সুন্দর হলেই হবে না, এর রং ও নকশা যেন বিছানার চাদর, পর্দা এবং ঘরের অন্যান্য সাজসজ্জার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। উৎসবের সময় ছাড়াও নিয়মিত ব্যবহার করা যাবে এবং সহজে পরিষ্কার করা যায়—এমন কার্পেট খুঁজলে সুতির গালিচা হতে পারে সেরা পছন্দ। সুতির কার্পেটে নানা রকম রং ও নকশা পাওয়া যায়। এগুলো তুলনামূলকভাবে হালকা ও নরম হওয়ার পাশাপাশি বেশ টেকসইও হয়। এছাড়া সুতির কার্পেট পরিষ্কার করাও বেশ সহজ। বসার ঘর, বেডরুম কিংবা অন্য যেকোনো ঘরেই প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো বিছিয়ে রাখা যায়। ঘরের সাজ বদলাতে সবসময় বড়সড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না, একটি সঠিক কার্পেট বা গালিচাই পুরো ঘরের আবহ পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন