বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

পকেটে মোবাইল রাখা শুক্রাণুর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ জানালেন বিশেষজ্ঞ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

পকেটে মোবাইল রাখা শুক্রাণুর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ জানালেন বিশেষজ্ঞ

প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখার দৈনন্দিন অভ্যাস পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা সংশয় রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ শুক্রাণুর গতিশীলতা ও জীবিত থাকার সক্ষমতার ওপর কিছুটা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে বাস্তবসম্মতভাবে বিশ্লেষণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ডেম হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং রিনিউ হেলথকেয়ারের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব আগরওয়াল জানান, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় শুক্রাণুর গতিশীলতা হ্রাসের কিছু প্রমাণ মিললেও শুক্রাণুর সামগ্রিক সংখ্যা কমে যাওয়ার নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশেষ করে প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখা নিয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা যায়, কারণ সেখানে ফোনটি সরাসরি প্রজনন অঙ্গের কাছাকাছি অবস্থান করে।

তবে ডা. আগরওয়াল গবেষণার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্বেগের বেশিরভাগ ফলাফলই এসেছে কৃত্রিম গবেষণাগারে শুক্রাণুর নমুনা পরীক্ষা অথবা ব্যক্তিগত অভ্যাসের জরিপ থেকে। এর বিপরীতে বাস্তব জীবনে সন্তান প্রত্যাশী দম্পতিদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পকেটে ফোন রাখার অভ্যাসের কারণে বীর্যের গুণমানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা গর্ভধারণে বিলম্ব ঘটার কোনো স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই।

এ কারণে চিকিৎসকেরা মোবাইল ফোনের বিকিরণকে একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখলেও একে সরাসরি পুরুষ বন্ধ্যত্বের নিশ্চিত কারণ বলতে নারাজ।

শুক্রাণুর গুণমান হ্রাসের ক্ষেত্রে মূলত অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে কোএনজাইম কিউ১০ (CoQ10) নামক সম্পূরক উপাদান গ্রহণের মাধ্যমে শুক্রাণুর গতিশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। এছাড়া জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং লাইকোপিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুক্রাণুর সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব সম্পূরক নিজের পছন্দে সেবন করা অনুচিত।

সতর্কতা হিসেবে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বা রাতে চার্জে রাখার সময় ফোনটি প্যান্টের পকেটের বাইরে রাখা একটি নিরাপদ অভ্যাস হতে পারে। কিন্তু শুক্রাণুর সংখ্যা কমলেই সব দায় ফোনের ওপর চাপানো সঠিক নয়; এর পেছনে অন্য স্বাস্থ্যগত কারণও থাকতে পারে। ফলে প্রজনন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানোই একমাত্র সমাধান।