নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ১০:৪৮ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার বা ১৭ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। স্পর্শকাতর এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রায়ের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনা এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
যদিও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি তবে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন বিস্ফোরণ নগরবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরেই বিচ্ছিন্নভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে কেবল গত ১২ নভেম্বরই শহরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে যা জনমনে ভীতির সঞ্চার করেছে।
এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনাকে রায়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবেই দেখছে। পুলিশ ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
উল্লেখ্য ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচারকাজ চলমান রয়েছে। রায় ঘোষণার দিনটিকে ঘিরে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে এবং রাজপথের নিয়ন্ত্রণ রাখতে রাজধানীজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪০০ এর অধিক সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে তারা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো ধরণের সহিংসতা বা নাশকতা কঠোর হাতে দমন করতে তারা প্রস্তুত। রায় পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন