নভেম্বর ২১, ২০২৫, ১০:৩৯ পিএম
শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় সারা দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৬০৬ জন আহত রোগী।
তবে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের হিসাব যোগ করলে আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেওয়া ৬০৬ জন আহত রোগীর মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর অবস্থায় ১৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
নিহতদের বিস্তারিত: ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদী জেলায়।ঢাকা: পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলী এলাকায় একটি ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে থাকা ৩ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রাফিউল ইসলাম (আনুমানিক ২০ বছর), আব্দুর রহিম (৪৮) এবং তাঁর ছেলে মেহরাব হোসেন (১২)। নিহতদের মধ্যে রাফিউল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষার্থী বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
এছাড়া মুগদার মদিনাবাগে নির্মীয়মাণ ভবনের রেলিং ধসে মাথায় পড়ে মাকসুদ (৫০) নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়।নরসিংদী: সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় নির্মীয়মাণ ভবনের দেয়াল থেকে ইট ধসে বাবা দেলোয়ার হোসেন ও ছেলে মো. ওমর (৮) আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ছেলে মো. ওমরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা দেলোয়ার হোসেনও মারা গেছেন। এছাড়া পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) মাটির ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
শিবপুর উপজেলার আজকীতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে ফোরকান মিয়া (৪৫) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে মারা যান এবং ডাঙ্গা ইউনিয়নের নাসিরউদ্দিন (৬৫) ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে স্ট্রোক করে মারা যান বলে জানান জেলা প্রশাসক।নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জ উপজেলায় দেয়াল ধসে ফাতেমা নামে ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয় এবং বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্পটিকে মাঝারি মাত্রার বলা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এই অঞ্চলের দুর্বল ভবনগুলোর ঝুঁকিকেই প্রকাশ করছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন