ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০১:০০ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ফোনের সিম কার্ড ব্যবহারে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি সিম কার্ড নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে এই সীমা ১০টি থাকলেও ধাপে ধাপে তা কমিয়ে মাত্র ২টিতে নামিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, ১ জানুয়ারি থেকে নতুন সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৫টির বেশি সুযোগ দেওয়া হবে না।
যাদের নামে বর্তমানে ১০টি বা তার বেশি সিম রয়েছে, তারা যখন সিম রিপ্লেস করতে যাবেন, তখন তাদের বাধ্যতামূলকভাবে সিম সংখ্যা ৫টিতে নামিয়ে আনতে বলা হবে। এছাড়াও আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া তিন মাস সময়ের মধ্যে যারা অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের সেই সক্রিয় অতিরিক্ত সিমগুলো আজ থেকে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।
সিমের সংখ্যা: দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা প্রায় ২৬ কোটি ৬৩ লাখ, যার মধ্যে সক্রিয় রয়েছে প্রায় ১৯ কোটির বেশি।
গ্রাহক অবস্থান: সিম ব্যবহারে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে ৯ম স্থানে রয়েছে।
বিপজ্জনক প্রবণতা: বিটিআরসির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করছে, যা দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।অপারেটরদের প্রতিক্রিয়া: সরকারের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটরগুলো। রবি আজিয়াটা পিএলসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিমের সংখ্যা কমানোর সাথে অপরাধ কমার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
উল্টো এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের রাজস্ব কমবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের পক্ষ থেকেও খাতের অন্যান্য সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।তবে বিটিআরসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রোধে এই কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। তবে আইওটি (IoT) ডিভাইসের জন্য বিশেষ সিরিজের সিম বিক্রির অনুমোদন দিয়ে পেশাদার ব্যবহারের পথ খোলা রাখা হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন