শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

১১৪ জুলাই শহীদের ডিএনএ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টাকে হস্তান্তর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

১১৪ জুলাই শহীদের ডিএনএ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টাকে হস্তান্তর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জন শহীদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছে সিআইডি। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ফরেনসিক কার্যক্রমে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন—সোহেল রানা, রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ, মাহিন মিয়া, ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)। সিআইডি নিশ্চিত করেছে যে, শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন।

৯টি পরিবারের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সাথে মিলিয়ে এই ৮ জনকে শনাক্ত করা হয়। সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বৈঠকে জানান, একজন শহীদের মা একটি নির্দিষ্ট গাছের নিচে তার সন্তানের কবরের দাবি করতেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে ফরেনসিক পরীক্ষায় সেখানেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে।প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তৎকালীন সরকারের নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

তিনি আরও বলেন, "এই শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। এটি কেবল ফরেনসিক কার্যক্রম নয়, বরং রাষ্ট্র কর্তৃক নিখোঁজ পরিবারগুলোর চোখের পানি মুছে দেওয়ার একটি মানবিক পদক্ষেপ।" আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বখ্যাত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন।

সিআইডি জানিয়েছে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যাদের স্বজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তারা যেন অবিলম্বে ০১৩২০০১৯৯৯৯ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সিআইডি এই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেছে, যা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।