শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

দেশের ৩৫ জেলায় শনাক্ত ভয়ংকর ভাইরাস, আইইডিসিআরের সতর্কবার্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

দেশের ৩৫ জেলায় শনাক্ত ভয়ংকর ভাইরাস, আইইডিসিআরের সতর্কবার্তা

দেশের ৩৫টি জেলায় প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআর মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০২৫ সালে আক্রান্ত হওয়া চারজন রোগীর সবারই মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ মৃত্যুহার ছিল শতভাগ।

আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারীতে নিপাহ রোগী শনাক্ত হয়।

এর মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’। সাধারণত শীতকালে খেজুরের রসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ালেও ওই শিশুটি আগস্ট মাসে বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল খেয়ে আক্রান্ত হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে নিপাহ এখন আর শুধু শীতকালীন রোগ নয়, বরং সারা বছরই সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।সভায় আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, "নতুন এই সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

নিপাহ এখন আর কেবল খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।" সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৫টিতেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। বিশেষ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এছাড়া মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যা পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের পাখির আধা-খাওয়া ফল এবং খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে আইইডিসিআর।